সৎলোকদের সাথে মিলিত হওয়ার দু‘আ


رَبِّ اَوْزِعْنِىٓ اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ اَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَاَنْ اَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَاَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ

উচ্চারণঃ “রব্বি আওঝি‘নী আন আশ্‌কুরা নি‘মাতাকাল্লাতী আন্‌আঁম্‌তা আঁলাইয়্যা ওয়া আঁলা- ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়া আন আ‘মালা স্ব-লিহাং তার্‌দ্ব-হু ওয়া আদ্‌খিল্‌নী বিরাহ্ঁমাতিকা ফী ঈবা-দিকাস্ব স্ব-লিহীঁন”।

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন[১], যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি; আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন[২] তার জন্য এবং যাতে আমি আপনার পছন্দমত সৎকর্ম করতে পারি[৩]আর আপনি নিজ করুণায় আমাকে আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন’[৪]
[সূরা নাম্‌ল-২৭, আয়াতঃ ১৯]

ফুটনোটঃ
[১] এখানে উদ্দেশ্য এই যে, আমাকে সামর্থ্য দিন। আমাকে ইলহাম করুন। [মুয়াস্‌সার]
যাতে আমি নিয়ামতের কৃতজ্ঞতাকে সর্বদা সাথে রাখি, তা থেকে কোন সময় পৃথক না হই। মোটকথা এই যে, সর্বক্ষণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ, আপনি আমাকে পাখি ও জীবজন্তুর কথা বুঝাতে শিখিয়েছেন। আর আমার পিতার উপর নিয়ামত দিয়েছেন যে, তিনি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ঈমান এনেছেন। [ইবনু কাসীর; আবুবকর যাকারিয়া]

[২] পিঁপড়ার মত ছোট একটি জীবের কথা শুনে বুঝার জন্য সুলাইমানের মনে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার অনুভূতি জাগলো যে, আল্লাহ আমার উপর কত অনুগ্রহ করেছেন! [আহসানুল বায়ান]

[৩] এখানে সৎকাজ করার সাথে একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যে, ‘যা আপনি পছন্দ করেন’ অর্থাৎ যাতে আপনার সন্তুষ্টি বিধান হয়। এর দ্বারা মূলতঃ কবুল হওয়াই উদ্দেশ্য। তখন আয়াতের অর্থ হবে, হে আল্লাহ! আমাকে এমন সৎকর্মের তাওফীক দিন যা আপনার কাছে মকবুল হয়। নবী-রাসূলগণ তাদের সৎকর্মসমূহ মাকবুল হওয়ার জন্যেও দু‘আ করতেন; যেমন ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম কা‘বা গৃহ নির্মাণের সময় দু‘আ করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে তা কবুল করুন’। [সূরা বাক্বারাহ-২, আয়াতঃ ১২৭]
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, কোন সৎকর্ম সম্পাদন করেই নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া ঠিক নয়; বরং তা কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে কাকুতি-মিনতির মাধ্যমে দু‘আ করা উচিৎ। [আবুবকর যাকারিয়া]

[৪] সুলাইমান আলাইহিস সালাম এসব বাক্যে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আল্লাহর রহমত ও দয়ার দরখাস্ত করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, জান্নাতে যাওয়া আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র সৎকাজের বিনিময়ে জান্নাত পাওয়া যাবে না। [বুখারী ৬৪৬৭]

হাদীসেও এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “কোন ব্যক্তি তার কর্মের উপর ভরসা করে জান্নাতে যাবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আপনিও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমিও না। তবে যদি আমাকে আল্লাহর অনুগ্রহ পরিবেষ্টন করে”। [আবুবকর যাকারিয়া]

No comments

Theme images by Blogger. Powered by Blogger.