অবৈধ ভালোবাসা সৃষ্টির কারণসমূহ ১
দ্বীনদারিতে দুর্বলতা
পরিবারের কোন সদস্যের মনে অবৈধ প্রেম
সৃষ্টির একটি কারণ হল দ্বীনদারিতে দুর্বলতা। অবিধ প্রেমিকের ভিতরে দ্বীনদারি থাকে
না অথবা তার পরিবারের লোকেরা দ্বীনদার নয়, অর্থাৎ সেই পরিবারের লোকেরা প্রাকটিসিং মুসলিম
নয়। নচেৎ
যে পরিবেশে দ্বীন ও ঈমানের আলো থাকে, সে পরিবেশে পাপাচারের অন্ধকার আসতে পারে না।
যে মন ঈমানী আমল দ্বারা আবাদ থাকে, সে মনে পোড়ো বাড়িতে
বাসা বাঁধার মতো কোন প্রেমের শয়তান জ্বিন বাসা বাঁধতে পারে না। যে হৃদয় মহান প্রতিপালকের ভালোবাসায়
পরিপূর্ণ থাকে, সে হৃদয়ে অন্য কারো কোন প্রকারের ভালোবাসা স্থান পেতে পারে না। যে মনের আকাশে মহান আল্লাহর ভালোবাসার
সূর্য আলো বিকীর্ণ করে,
সে মনের আকাশে অন্য কোন চাঁদ-তারার ভালোবাসার আলো
বিকাশ লাভ করতে পারে না।
যে পরিবারের লোকেরা দ্বীনী তরবিয়ত
পেয়ে হালাল-হারাম বুঝেছে, তারা কোনদিন অবৈধ ও নোংরা কোন কর্মকাণ্ডে
জড়িয়ে যেতে পারে না। না, বংশীয় মর্যাদার কোন খেয়াল থাকে না প্রেম-পিরীতে। ভালোবাসা ও যুদ্ধে কোন সম্মান নেই, এ কথা তারা জানে। সুতরাং দ্বীনদারি না থাকলে নিজের মান-সম্মান বাঁচাতে অন্য
কিছুর দাওয়াই ফলপ্রসূ হতে পারে না।
দ্বীনের অনুসরণ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে
যে বিমুখ হবে, সে অবশ্যই শয়তানী চক্রান্তে ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَمَنْ
يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
“যে ব্যক্তি পরম দয়াময়
আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হয়, তিনি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত
করেন, অতঃপর সে হয় তার সহচর”।
[সূরা যুখরুফ-৪৩, আয়াতঃ ৩৬]
আর তিনি শয়তানী পদাঙ্ক অনুসরণ করতে
নিষেধ করে বলেছেন,
يَا اَيُّهَا
الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ
خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَاِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান
তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়”।
[সূরা নূর-২৪, আয়াতঃ ২১]
যদি বল, মসজিদের ইমামরা মসজিদের
ভিতরে প্রেম করছে। কত পর্দানশীল হেরেম ও বোরকার ভিতরে প্রেম করছে। কত আলেম ও হাজী ঘরের বেটা বেটিরা প্রেমের
বাঁশি বাজাচ্ছে। তাহলে
আমি বলি, তুমি যাদের কথা বললে, তারা দ্বীনের প্রতীক ঠিকই। কিন্তু তুমি নিশ্চিত হও যে, তারা প্রকৃত দ্বীনিদার
নয়।
কেউ সলাত পড়লে যা পেশায় ইমামতি করলেই
তাকে দ্বীনদার মনে করার কারণ নেই। কেউ বোরকা পড়লেই তাকে ‘পর্দাবিবি’
ধারণা করা সঠিক নয়।
ঐ যে বলা হয় না, “ওরা মুসলিম;
কিন্তু প্রাকটিসিং মুসলিম নয়”।
বইঃ প্রেম রোগঃ প্রতিপাদন ও প্রতিবিধান
লেখকঃ শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী
আল-মাজমাআহ, সঊদী আরব
No comments