অবৈধ প্রেমের পরিণতি ১
অনেক মুসলিম তরুণ-তরুণী ভালোবাসায়
পড়ে, কিন্তু তাতেই তারা শিরকে পতিত হয়। যেহেতু যে ভালোবাসা মহান আল্লাহর প্রাপ্য,
তার অনেকটা তারা তাদের ভালোবাসার মানুষটিকে দান করে ফেলে। প্রেমের দেবীর পূজারী
হয়ে যায় অনেক প্রেম পাগল যুবক। অথচ শিরক বিশাল বড় অপরাধ। শিরকের পাপ ক্বিয়ামত দিবসে
ক্ষমার অযোগ্য। শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অনিবার্য। মহান আল্লাহ
তা‘আলা বলেছেন,
وَمِنَ
النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ اَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّٰهِ
وَالَّذِينَ آمَنُوا اَشَدُّ حُبًّا لِلَّ
“আর মানুষের মধ্যে এমনও
আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে ভালোবাসে
আল্লাহর ভালোবাসার মতই; কিন্তু যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সর্বাধিক
ভালোবাসে”।
[সূরা বাক্বারাহ-২, আয়াতঃ ১৬৫]
আরবের অনেক প্রেমের কবি বলেছেন,
‘আমাকে ইয়া আব্দাহা (হে প্রেমিকার দাস) বলে ডেকো, কারণ তা হল আমার সবচেয়ে বড়
গর্বের নাম’। আড় এ হল স্পষ্ট শিরক। এই কথাই অধিকাংশ প্রেমের দেওয়ানারা বলে থাকে।
মুখে না বললেও তাদের আচরণ ও অবস্থা বলে সে দাসত্ব স্বীকারের কথা।
একজন লিখেছেন, “আমি তোমার
ভালোবাসা ছাড়া দ্বীন রূপে অন্য কিছুকে ভালোবাসিনি এবং তোমার ছাড়া কোন গায়রুল্লাহর
আরাধনা করিনি!” [পত্রিকা ‘ত্ববীবুক’, সেপ্টেম্বর ১৯৯২]
কেউ বলেছেন, “ভালোবাসা হল আমার
দ্বীন, আমার ধর্ম”। নাঊযু বিল্লাহি মিন যালিক।
কেউ বলেছেন, “প্রিয়তমা! জন্মের পর
থেকে তোমার নাম অপেক্ষা অধিক মিষ্টি অন্য কারো নাম আমি মুখে উচ্চারণ করিনি। যেদিন
থেকে পৃথিবীর আলো দেখেছি, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তোমার চাইতে সুন্দর কিছু আমার
চক্ষু দর্শন করেনি। তোমার নাম আমার নামে আমরণ মিলিত থাকবে। আমি তোমাকে চিরদিন
ভালোবাসবো। যে কোন পরিস্থিতিতে আমি আমরণ তোমাকেই ভালোবেসে যাবো। তোমাকে আমি মন
দিয়েছি, প্রয়োজনে আমি তোমার জন্য জীবন দেবো। আমি যদি বেঁচে থাকি, তাহলে সে পৃথিবীর
আলো-বাতাস তুমি। তার সৌন্দর্য ও সৌরভ তুমি। আমার যদি হৃদয় থাকে, তাহলে তার স্পন্দন
তুমিই। আমার যদি চক্ষু থাকে, তাহলে তার দৃষ্টিশক্তি তুমিই। আমার কোন সুখ থাকলে সে
সুখের উৎস তোমার ওষ্ঠাধারের মধুর হাসি। প্রিয়তমা! তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অকল্পনীয়।
আশা করি, আমাকে ছাড়া তোমার জীবনও তাই। তুমি ছাড়া আমার এ জীবনের কোন স্বাদ নেই।
তুমি নেই, তাই যেন আমার অক্সিজেন নেই। তুমি ছাড়া আমার জীবন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
আমার জীবন-মরণ সমান হয়ে গেছে। কিন্তু কি করি বলো? ভাগ্য যে আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ
ফায়সালা করেছে...!!” [পত্রিকা ‘আল-জাযীরাহ’, সংখ্যা ৯৬৮২]
এই শ্রেণীর অনেক কথা বাংলা
পত্রিকা, উপন্যাস বা কাব্যেও বিরল নয়। এমন প্রেমকথা পড়ে হাদীসে কুদসী স্মরণ আসে,
যাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
“...আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য
লাভ করতে থাকে, পরিশেষে আমি তাকে ভালোবাসতে লাগি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি,
তখন আমি তার ঐ কান হয়ে যাই যার দ্বারা সে শোনে; আমি তার ঐ চোখ হয়ে যাই যার দ্বারা
সে দেখে; আমি তার ঐ হাত হয়ে যাই যার দ্বারা সে ধরে এবং তার ঐ পা হয়ে যাই যার
দ্বারা সে চলে। আড় সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তাহলে আমি তাকে দিই এবং সে যদি আমার
আশ্রয় চায়, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দান করি”।
[বুখারী ৬৫০২, অধ্যায়ঃ সদয়
হওয়া, পরিচ্ছেদঃ ৮১/৩৮]
কোন কোন লোক আছে, যারা আল্লাহ
ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ বলে মনে করে এবং তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতোই
ভালোবাসে। এমন প্রেমিকার পূজারীরা কি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত নয়? অথচ মহান আল্লাহ
তা‘আলা বলেন,
قُلْ اِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا۠ اَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
“বলুন, আমার স্বলাত, আমার
কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই।
আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দের মধ্যে
প্রথম”।
[সূরা আন‘আম-৬, আয়াতঃ ১৬২-১৬৩]
কোথায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া
তা‘আলা, আর কোথায় প্রেম-বাউলা? নাঊযু বিল্লাহ মিন যালিক।
বইঃ প্রেম রোগ– প্রতিপাদন ও প্রতিবিধান
লেখকঃ শাইখ
আব্দুল হামীদ ফাইযী

No comments